তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, খুব সম্ভবত। স্কুলে একজন নতুন ইংরেজির শিক্ষক এলেন।
অল্পবয়স্ক, বেশ জিম করা পেটানো চেহারা; উনি নাকি ক্যারাটে ব্ল্যাক বেল্ট ছিলেন;
খুবই ভদ্রলোক; বেশ ভালই পড়াতেন; নাম ঠিক মনে পড়ছে না, সম্ভবত অরূপ। ওনার চেহারা দেখে আমরা ছাত্ররা বেশ ভয়ে ভয়ে
থাকতাম, ক্লাসে কোনও গণ্ডগোল না।
তখন কোলকাতা বই মেলা সবে শেষ হয়েছে। আমি সেই বছর বইমেলায় যাইনি। একদিন
ক্লাসে অরূপ স্যার পড়া শুরু করার আগে জিজ্ঞেস করলেন, কে কে এবারের বইমেলায় গেছে? ক্লাসে
যা হয়, সবাই হঠাৎ করে নিজেকে পুস্তকপ্রেমী
প্রমাণ করতে চায়; অনেকেই হাত তুলল। তাদের বেশীর ভাগই সেইবারের বইমেলায় যায়নি।
এই না যাওয়া কিন্তু হাত তোলা ছেলেদের দলে, একজন
ছিল রুদ্র। পুরো নাম মনে নেই। আর আমার সাথে স্কুল জীবনে বেশী কথাবার্তাও হোতো না।
ওর একটু কথার উচ্চারণ করতে অসুবিধা হত, যা নিয়ে ক্লাসের ছাত্ররা ওকে অনুকরণ করে
মজা নিত; খুবই বাজে অভ্যাস কিন্তু একটা বয়সে স্কুল জীবনে এগুলো হয়ে থাকে; সুখ
স্মৃতি হিসেবেই রয়ে যায়।
তো, রুদ্র হাত তোলায়, রুদ্রকে অরূপ স্যার দাঁড়
করান, জিজ্ঞেস করেন কোন স্টল থেকে কি বই কিনেছে। রুদ্র পড়ল ফাঁপরে! পাশ থেকে একটি
অত্যুৎসাহী, বন্ধুর শুভচিন্তক ছেলে ফিস ফিস করে বলে, “ বল, বেনফিস থেকে বই কিনেছি।“
রুদ্র বন্ধুর ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে স্যারের কাছে প্রকাশ করল ওর পুস্তকপ্রেম।
স্যার রীতিমত আঁতকে উঠলেন, “বেনফিস এ বই!” আমার এখনও স্যারের মুখের এক্সপ্রেশন মনে আছে। আর তারপর মনে
আছে, যে উত্তম মধ্যম কেলানি রুদ্র খেয়েছিল স্যারের কাছ থেকে মিথ্যে বলার জন্য।
বেচারা রুদ্র!