এই মানুষটিকে আমি শেষ দেখেছি বছর বারো আগে। আজও যখন মনে করতে চাই, চোখের
সামনে ভেসে ওঠে একটা খাটো ধুতি পরা, কৃষ্ণবর্ণ, মধ্যবয়স্ক, ছোটোখাটো চেহারার
মানুষ। বাম হাতে সবসময় একটা ঘড়ি আর বৈষ্ণব। হারানদা, হারান নাপিত, সবাই যা বলে
ডাকত। হারানদা ছিল আমাদের স্কুলের নাপিত! বিষয়টা পরিষ্কার করে দেই।
সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে
যখন স্কুলের মেন গেট দিয়ে ছাত্ররা প্রবেশ করত, আমাদের প্রধান শিক্ষক মহাশয় স্কুলে
প্রবেশের মুখে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এর একটাই কারন ছিল। ছাত্রদের চুল এবং নখ ছোটো করে
কাটা নাকি তা পর্যবেক্ষণ করা। আর প্রধান শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকত হারানদা। কোনও
ছাত্রের চুল আর নখ বড় থাকলে, তাকে সোজা তুলে দেওয়া হোতো হারানদার হাতে। চুল ছোটো
করে তবেই স্কুলে প্রবেশ। আমাকে যদিও কোনদিন হারানদার হাতে পড়তে হয়নি, তবু লোকটিকে
আমার বেশ লাগত।
আজও আমার চুলের উচ্চতা দেড় ইঞ্চির বেশী কখনই যায় না। অনেকটা বলতে পারেন,
যাকে আমরা বলি, বাটি ছাট (লালুর মত নয়)।
স্কুলের আবেশ রয়ে গেছে।
এর বাইরে আমি হারানদা কে দেখেছি, আমাদের স্কুলের মাঠের কোনায় কদম গাছের তলায় বসে বিড়ি খেতে আর নিজ মনে রাধাকৃষ্ণের ভক্তিগীতি গাইতে। এছাড়া আমি
তাকে আর চিনতাম না। কয়েকদিন আগে, এক স্কুলের সহপাঠীর সাথে পুরানো স্কুলের
স্মৃতিচারণ হচ্ছিল। তখন কথায় কথায় জানলাম, হারানদা মারা গেছে। এই লেখাটা ছাড়া,
হারানদা কে বাঁচিয়ে রাখার আর উপায় দেখলাম না।
No comments:
Post a Comment