Monday, June 17, 2013

ফাঁকা প্রেম



এই ঘটনাটি লিখতে গিয়ে “ফাঁকা প্রেম” নামটাই বেছে নিলাম। কারন যেদিন ভেবেছিলাম এই ছোট্ট কয়েক ঘণ্টার কথা লিখব, সেদিন ফ্লাইটে ছিলাম আর অনুপমের “ফাঁকা ফ্রেম” শুনছিলাম। আমি অনুপমের গানের খুব একটা ভক্ত নই, তবে এই ক্ষেত্রে এই নামটা আমার বেশ উপযুক্ত মনে হল, অনুপমের গানটার থেকে কিছুটা অনুপ্রাণিত হয়ে। এটি কোনও সেন্টি খাওয়া প্রেমের গল্প নয়, আবেগ নিংড়ে লেখা নয়, শুধু ঘটনাটি লেখা। এতে কোনও ব্যক্তিবিশেষকে অপমান করার ইচ্ছে নেই, পাঠকদের থেকে “আহা আহা...আহারে...ইসস” শোনারও ইচ্ছে নেই।  এতে কারও ব্যক্তিগত কথা বাজারি করা হচ্ছে না।

­গতকাল
বেসোঁতে কদিনের কাজ।  সেইন্তে ভঁআতে অতনু থাকে। ওর ওখানেই ওঠার কথা, একদিন থেকে, পরের দিন বেসোঁ। অতনুকে বারবার বলে দিয়েছি, আমার পাহ্রী আসার কথা আর কাউকে না জানাতে, আর কারও সাথে দেখা করার ইচ্ছে ও সময় কোনটাই নেই। দ্য গলে অতনু আমাকে নিতে আসতে পারেনি, আমি সকাল সকাল নেমেছি আর ওকেও কর্মক্ষেত্রে বেরোতে হবে। ট্যাক্সি নিতে বলেছে। আমি ওর এপার্টমেন্টে পৌঁছালেই, ও বেরিয়ে যাবে। অ্যারাইভালে বেরিয়ে কিছু দূর এগোতেই হঠাৎ ডানদিকে চোখ গেল, দেখলাম তুমি দাঁড়িয়ে আছ। পাঁচ মিনিট দু’জন দু’জনের তাকিয়ে থাকলাম। তুমি কি করে জানলে যে আমি আজ আসছি? আমি তো কাউকে জানাইনি, অতনুরও তোমার খবর রাখার কথা নয়। কোনও কথা বলিনি, অনেক কিছু মনে চলছিল, অন্যমনস্ক হয়েই ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের দিকে চললাম।  

চার বছর আগে
এয়ার পোর্টের দিকে ট্যাক্সি চলেছে, রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। আমরা দু’জন ট্যাক্সির দুই জানলা দিয়ে একটা শহরের একই রাস্তার দুটো আলাদা ফুটপাথ দেখে চলেছি। কারও মুখে কোনও কথা নেই। দু’জনের মনেই এক রাগমিশ্রিত দুঃখ। রাগ, একে অপরের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব না বোঝার; দুঃখ, প্রেম নামের বন্ধুত্বের বন্ধু হওয়ার সময় আর নেই, আমরা অবহেলা করে চলেছি আজও ভবিষ্যতের কথা ভেবে। তোমার পাহ্রী (তখন “প্যারিস” বলতাম) যাওয়াটাকে সেই সময় মেনে নিতে পারিনি। আমিও যাইনি, কেবল সেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কিন্তু তুমি যাবেই, যাও, তবু আজও একটা প্রতিশ্রুতি দিতে পারলে না, শেষ মুহূর্তেও।

ট্যাক্সি থেকে নেমে, তোমাকে শুধু বিদায় জানিয়েই ট্যাক্সিতে উঠে পড়লাম। ঠিক করে কথা বলতে পারিনি। এয়ার পোর্টের ভিড়ে তোমার হারিয়ে যাওয়া অব্দি অপেক্ষা করিনি। ফিরে আসছিলাম, হয়ত এতটা দুঃখ তখনও আর কোনও কিছুতে পাইনি। একটা ম্যাসেজ এলো, তুমি জানালে যে তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো, প্রথমবার। সেই মুহূর্তেই ট্যাক্সি আবার ঘোরালাম এয়ার পোর্টের দিকে, ফিরে এলাম যেখানে তোমাকে ছেড়ে গিয়েছিলাম, তুমি তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে। তার পরের ত্রিশ মিনিট আমি খুব নিবিড়ভাবে তোমার উষ্ণতা বুঝেছিলাম। তুমি চলে গেলে। তুমি আলাদা ছিলে, তুমি চলে যাওয়ার সময় শীতলতা দিয়ে যাওনি।

পাহ্রী পৌঁছে তুমি কেবল দুই মাস আমার সাথে যোগাযোগ রেখেছিলে, তার পর তুমি আর তুমি ছিলে না। কোনও এক অনন্যার খোঁজ করে চলেছি আমি আজও। পাহ্রীর এক ফ্লোরিস্টকে দিয়ে প্রতিবছর জন্মদিনে তোমায় ফুল পাঠিয়েছি, পেয়েছিলে? শেষ বছর থেকে তোমার ঠিকানাটা বদলে গেছে বোধহয়!

আজ
আজকের এই রাতটার কথা অনেক আগেই লিখে রেখেছি। তোমার কথা লেখা নেই এতে, আজকেও তুমি নেই। এই “তুমি” তুমি নও। 


“তোমার সাথে আলাপ বছর তিন আগে;
আলাপ সেই প্রেমের শহরে, এক তারা ভরা রাতে
আজও আশ্চর্য হই, কেন সেদিন মেঘ সরে গেলো?
মধ্যরাতের প্যারিস, খুব শীত বেড়ে গেলো হঠাৎ করে
তুমি চশমা খুলে দিলে, নরম পশম নামিয়ে দিলে গলা থেকে;
শেষ পেগ অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে কখন বুঝতে পারিনি
আজ দুপুর থেকে তোমার চুলের ঘনত্বে হারিয়ে গেছি
জেনেভা থেকে সোজা উড়ে এসেছি, কাজের ওজুহাত সবাই দেয়
প্রেমিক হিসেবে পরিচয় দিতে চাই না, নীল চোখের নীলকণ্ঠ পাখি তুমি
মিথ্যে নয়, সদ্য হারানো প্রেম ভুলতে চেয়েছিলাম শরীরের দাবীতে;
রাত দুটো, দুজন হাঁটতে থাকলাম, তপ্ত আমার ওভারকোট
খালি রাস্তায় তুমি আমার দুই গাল চেপে ধরলে, শীতল হাত;
আমার ওষ্ঠ বন্দী বিশ সেকেন্ড; বললে ক্ষমা করতে
আজ আবার প্রথম চেনা মুখ তুমি, বিশ্বাস করো;
আর ক্ষমা করতে চাই না, তুমি জানো, আমি জানি;
এই তিন বছর কাদের থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছি? তুমি বল
ফিরিয়ে দাও আমাকে সেই রাত; কথা দিলাম, আর এই রাত ফিরবে না”

No comments:

Post a Comment