তাড়াতাড়ি করে সিগারেটটা শেষ করে ক্যাফের ভেতর ঢুকে এলো। আজ এত বড় একটা ডিসিশন নেওয়ার দিন। আজ পাশে নয়, দুজনের মুখোমুখি বসা প্রয়োজন। ব্যাগটা নিজের পাশের চেয়ারে রেখে দিল, সামনের চেয়ারটা ফাঁকা। ভাবতে অবাক লাগছিল, আজই কি এই ড্রিমস ক্যাফেতে শেষবার বসবে, জীবনে প্রথমবার দেশ ছাড়ার আগে? সেই ড্রিমস ক্যাফে, পার্ক স্ট্রিট আর কিদোয়াই রোডের জাঙ্কসনে এই ক্যাফেতেই কত বিকেলবেলায় দুজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করে কাটিয়েছে। সময়গুলো কত সহজে নিজের মত কেটে গেছে, কত জটিল সময়ের সব না বলা কথাগুলো দুজনে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে এই ক্যাফেতে। তবে ভাবতে পারেনি, এটাই এই ক্যাফেতে শেষ বারের মত আসা, কোনদিন চাইলেও ফিরে আসতে পারবে না এখানে; দৈবের বশে নয়, সেই, জেদের বশে।
অলরেডি সাড়ে পাঁচটা বেজে গেছে। একটা ফোন করবে কি? কোথায়? কত দেরী? না, আজ থাক। আজ নিজেকে একটু স্বার্থপর মনে হচ্ছিল। কিছুই তো করতে পারেনি ওর জন্য, শুধু ঘরের বাইরের সব মন খারাপ করা তিক্ততার পর ওর কাছে বারবার ছুটে এসেছে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। অবশেষে ও এসে পৌঁছল, মাথা নীচু, কিছু কথা বলতে পারল না। দুজনেই অনেকক্ষণ চুপ করে কাটাল, যেন আজ এতদিনের পর কারোরই আর কিছু বলার নেই, সব গল্প আর ঘটনাগুলো নিজের কাছে গুজব মনে হতে থাকল। পর্বতপ্রমান অভিমানের পাথরের চাঁই ভাঙার দায়িত্বটা হয়ত পুরুষদের জন্যই সৃষ্ট।
- আজ ভিসা অ্যাপলাই করার চিঠিটা এসে গেছে। দেখা করার দরকার ছিল। তোমার মতামত জানা প্রয়োজন।
- আমি কে?
ওর এরকম গলার আওয়াজ সম্পূর্ণ অচেনা। এর কোনও উত্তর জানা নেই। প্রশ্নটা আরও জটিল হয়ে উঠল-
- আমি তোমার কে?
আরও এক ঘণ্টা কেটে গেলো। কোনও কথা হয়নি। আলাদা আলাদা করে চেয়ার ছেড়ে দুজন দুজনের মত কোনও উত্তর খুঁজতে বেরিয়ে গেছিল। ছোটো করে "বাই" টাও বলা হয়নি।
বাড়ি ফিরে মেল লিখতে বসল সিলভাঁকে, গুছিয়ে লিখতে হবে যে এখন যাওয়া সম্ভব না। কোনোদিন সিলভাঁর সাথে আর দেখা হবে কিনা অনিশ্চিত।
চন্দ্রবিন্দুর একটা লাইন থেকে যায়, "মুখ নীচু আহত দুচোখ বলেছিল কি যে"!