অনেক ছোটো জায়গা থেকে উঠে এসেছিল। ছোটো মানে
সেখানকার লোকগুলোর মন, তাদের সঙ্কীর্ণ মানসিকতা, কিছু না জেনেই গোটা দুনিয়ার
মুহূর্তের বিপ্লব ঘটানোর প্রবণতা, সারাজীবন একই জায়গায় টিকে থাকা, পৃথিবী দেখা
বলতে কেবল একটা পাড়া। দোষ তাদের নয়, দোষ সমাজের, দোষ রাজনৈতিক অবশ্যই। সারা
দুনিয়ার কাছে নিজেকে প্রকাশ করতে, কিছু একটা হতে, বিশাল উদারতা প্রকাশ করতে না ওকে
ওর চারপাশের মানুষ শিখিয়েছে, না পরিবেশ, না ছোটবেলার স্কুল শিখিয়েছে। কিছুই ছিল
না, তবে একটা মন ছিল বাইরের সবকিছুর দিকে যা খুব সহজেই আকৃষ্ট হোতো। আর একজন
ছিলেন, ওর মা, সবকিছুই ছেলের জন্য ত্যাগ করেছিলেন। এটা হয়ত বাংলার ঘরে ঘরে আজও
অসংখ্য মধ্যবিত্ত ঘরের মা-এরা করে থাকেন। আর হ্যাঁ, মধ্যবিত্ত কখনই একটা শ্রেণী
নয়, এটা একটা মানসিকতা।
মনে আছে, সত্যজিৎ রায়ের “নায়ক” ছবিতে
ট্রেনের ডাইনিং কারে “মিস আধুনিকা” নায়ক অরিন্দমকে বলছিলেন যে বাংলার বাইরে এলে
বাইরের চেহারাটা কিরকম বদলে যায়। আমি যখন ট্রেনে এখন ঠিক বাংলা পার হচ্ছি, এই
কথাটাই হঠাৎ করে মনে এলো। যাই হোক, যার কথা লিখতে বসেছিলাম, এটাই হয়ত আদর্শ সময়
তার সবকিছুকে আমি নিজের মত করে সাজিয়ে লিখি। হালকা জঙ্গল শুরু হোয়ে গেছে।
একটা মানুষকে নিয়ে লিখতে বসলে যদি এই
মানসিকতা থাকে যে তার সব ভালো দিকগুলোই আমি লিখব, তবে মনে হয় প্রথমে তার খারাপ গুণ
গুলো নিঃসঙ্কোচে বলে ফেলা ভালো এই বেলায়। ও প্রচণ্ডভাবে জেদি, যদি ভাবে করব তো
করবে, যদি করবে না তো ভগবানেরও সাধ্য নেই; সবসময় নিজের মর্জিতে চলেছে; সময় মেনে
চলতে দরকারে সবাইকে ছাড়তে পারে, পান করা বা পান খাওয়া কোনটাতেই আপত্তি নেই,
সিগারেটেও; যাদের ভালোবাসে, তাদের জন্য নিজের সর্বস্ব খোয়ায়। উপরোক্ত গুণ গুলোকে
বদগুণ বললাম কারন অনেকে না হলে আমাকে বদলোক ভাববেন। আসলে সৎ এবং বদ, এই দুটি গুণ
আজ তাদের আপেক্ষিকতার চরম অবস্থান থেকে এতটাই নিকট প্রতিবেশী হোয়ে উঠেছে যে কোনও
মানুষকে বশ করার আগে বুঝে উঠতে পারেনা নিজেরা আকর্ষণ করবে না বিকর্ষণ।
বিজ্ঞানের ভাষায় জাড্য ধর্মের যা অর্থ, ওর গুণ
গুলো অবশ্যই সেই জাড্য ধর্ম মেনে চলে। আর সেখানেই বোধহয় সব মুশকিলের সূচনা। এই
জাড্য ধর্মের নাম দিলাম “মাথার পোকা” কারন এই ধর্মই ওর সব আবেদন, প্রতিশ্রুতি,
স্বপ্নকে কুঁকড়ে কুঁকড়ে খেয়েছে। এর জ্বালা চামড়ায় নয়, হৃদয় কোটরে নয়, কিছুটা হয়ত
মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থে কারন আজ ওর সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ মনে রাখার ক্ষমতা কমে
এসেছে। তবে সময়ে সময়ে এই পোকার আকস্মিক আগমন ওর বাইরের জগতটাকে কাছ থেকে দেখার
দৃষ্টিভঙ্গিকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। কিন্তু মনের জানলা সবসময় খোলা, আলো বাতাসের
অবাধ প্রবেশের জন্য। খোলা রাখতেই হবে, সিধু জ্যাঠা বলেছে তো!
ঘাটশীলা পার হলাম।
No comments:
Post a Comment