পূজনীয় স্যার,
"একুশে পা" দিয়েছি তখন সবে, এক শীতের সন্ধ্যাবেলা আপনার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলাম হঠাৎ করে। স্কুল ছাড়ার পর সেই আপনার সাথে আমার অনেক দিন পর দেখা। খুব সখ করে আপনার বাগানে ডালিয়া ফুল গুলো দেখিয়েছিলেন, চাঁদের আলোতে। খুব প্রাণ খুলে কথা বলেছিলাম সেদিন আপনার সাথে। আজও স্কুল নিয়ে আলোচনা হলে আমি সবাইকে আপনার কথা অবশ্যই বলি; নিজের মাতৃভাষাকে জানতেই পারতাম না, আপনি না থাকলে। আপনার মনে আছে? সেদিন খুব ছোটো শিশুর মত সেই কথা আপনার কাছে স্বীকার করেছিলাম। আপনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন যে নিজের টুকু যেন না ভুলি। চেষ্টা করেছি, না ভুলতে। আজও চেষ্টা করি নিজের ভাষায় নিজেকে প্রকাশ করতে, যতদূর সম্ভব। হয়ত আপনার মনে আছে পরের দিন ছিল "একুশে ফেব্রুয়ারী।" আপনি পরের দিনের স্কুলের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
গতকাল রাতে শুতে যাওয়ার আগে খবরটা পেলাম। আমাকে ক্ষমা করবেন, আপনার সাথে দীর্ঘ সাত বছর কোনও যোগাযোগ রাখতে পারিনি। আজ অনেককে জিজ্ঞেস করে আপনার ফোন নাম্বার জোগাড় করেছি, কিন্তু আমার কথা বলার সাহস নেই। এটুকুই লিখতে পারতাম, লিখে ফেললাম। আর হয়ত একুশ দিনও নেই। আগামীকাল "একুশে ফেব্রুয়ারী।"
আপনাকে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানালাম। কোনও ভুল করে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।
প্রণাম নেবেন।
ইতি
যে ছেলেটি জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকত শুধু, ক্লাস এইট, বি সেক্সন।
No comments:
Post a Comment